হ্যালুসিনেশন

নাজনীন খলিল
কবিতা
Bengali
হ্যালুসিনেশন

দুঃখদিনের দূতি

তোরঙ্গ খুলতেই ঘর জুড়ে
ন্যাপথেলিনগন্ধের মতো স্মৃতির ঝাপটা
আয়নায় একটুকরো মনখারাপ, বিষন্ন হাসে।
অপটিক ক্যাবল থেকে উড়ে যায়
ফিরে আসে বিষাদমগ্ন একলা শালিখ;
নিঃসঙ্গ শালিখ দুঃখদিনের দূতি–
সকলেই জানতো সে কথা।

 

হ্যালুসিনেশন

মিহিমৃত্যুর মতো একটা কান্না ছুঁয়ে আছে
আমিতো চেয়েছি তীব্ররোদ, ঘাম আর বৃষ্টি। শ্বেতপাথরে লিখা নাম
বিরতিহীন হ্যালুসিনেশনে এন্টিক শো-পিস হয়ে উঠছে ক্রমাগত।
যারা আয়নার সামনে দাঁড়াতে নিয়ত ভয় পায়
তারাই তোমার সব কথার মাঝে কেবল নান্দনিকতা খোঁজে।
যেন তুমি তার জন্য তৈরি করবে মিথ্যে সুন্দরের এক নন্দনকানন।
অথচ
ভাষাবিদেরাও জানে
ভাবনার কোন যথার্থ ব্যাকরণ হয়না কখনো।

একটি নরম রোদের চাদর তোমাকে ছুঁয়ে যেতে যেতে
গুটিয়ে নিল তার ব্যাকুল প্রসারিত করতল।
হয়তো ক্রমান্বয়ে এভাবেই
একদিন সবকিছু হারিয়ে যাবে ছায়ার নৈঃশব্দ্যে…

 

চোখের পাথর

মাঝখানে কাঁচের দেওয়ালজোড়া অভিমান;
কে কাকে ফেরায়?

হাঁটতে হাঁটতে অবিসংবাদিত একটা গোলচক্কর
চারদিকে চারপথ ; কুহকীমায়ার ইশারা।
বেখেয়াল নাজুক হাতের বন্ধন খুলে
কে যে কোন পথ ধরে চলে গেলো!
রেখে যায়নি কোন পদছাপ।

এক ঘোরলাল কৃষ্ণচূড়া দুপুর
দূর গোধূলির পথে বেঁকে যেতে যেতে
পিছু ফিরে একবার দেখে নেয়
আর কতো বাকী আছে
রংয়ের প্রলেপ মাখা মধ্যাহ্নের ছায়া।
অস্তমিত বিকেলের পথ জুড়ে রক্তাভ পাপড়ি,
লালগালিচা বিছানো পথে একটি সন্ধ্যা নেমে আসে
আকাশের শামিয়ানায় গুড়ো গুড়ো ছড়ানো
আবীর আবীর কিছু রাগরং;
চৌরাশিয়ার বাঁশিতে কাঁদে ইমনকল্যাণ,
উলোঝুলো পথেপ্রান্তরে বাজছে সায়াহ্ন।

ভরসন্ধ্যার খাতা খুলে দেখি
তরঙ্গের ধ্যানমগ্ন মুদ্রার বিন্যাস,
যা কখনো শেখোনি তুমি জোয়ারভাটিতে;
অগাধ জলের শিথানে চোখ রেখে
দেখে গেছো শুধু মাছেদের কেলি
শেখোনি মাছের প্রকারভেদ,
কানকোর ভিন্ন গঠনপ্রকৃতি।
নোনাজল দেখেছো শুধু,
দেখোনি নিষিক্ত চোখের পাথর।

 

স্যুভেনির

তোমার শহরের মানচিত্র আঁকছিলাম দীর্ঘক্ষণ
সাদা কাগজে অবিরত পেন্সিলের উল্টোপিঠ ঘষে গেছি ;
কোন দাগ পড়েনি কোথাও।
ছায়াঘন চোখের রাজপথ থেকে
গলি-উপগলি পেরিয়ে
এক গভীর উদ্যানের সাথে
মিশে গেছে যে অঙ্গুলি-নির্দেশ
কোন আঁচড়ের টানে যায়না ধরে রাখা তাকে।

নিমগ্ন পাঠে খুঁজেছি
শব্দের অর্ধস্ফুট বর্ণমালার ঘ্রাণ।
যন্ত্রণাগুলোকে ঘুম পাড়িয়ে রেখে
একটা হট্টগোলের পৃথিবীতে চলে গেলেও
বিস্মরণে হারিয়ে যেতে দেয়না সুষুপ্ত একটা খোঁচা।

মুঠোর ঘর্ষণে সমস্ত সবুজ ঝরে গেলে
পাতার কংকাল হাতে বসে থাকি।

বরফে চোবানো বোতলটা এবার খোলো
ময়ুরপাখায় উড়তে থাকুক অবরুদ্ধ স্বপ্নগুলো;
একটি নাচের পালক খসে গেলে,তুলে নিয়ে
মহার্ঘ্য স্যুভেনির করে রেখে দিও।

নাজনীন খলিল। জন্ম ৬ নভেম্বর, ১৯৫৭ সাল; সিলেট। পড়াশুনা এবং কর্মক্ষেত্র সিলেট। সত্তর দশকের মাঝামাঝি থেকে লেখালেখির শুরু। বিভিন্ন পত্রিকা সম্পাদনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন রেডিও বাংলাদেশ সিলেটের একজন নিয়মিত কথক, গ্রন্থক এবং উপস্থাপকের দায়িত্বপালন করেছেন। লেখালেখির বিষয়বস্তু মূলত কবিতা, প্রবন্ধ এবং...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ