বসন্ত বাহার

ওয়াহিদার হোসেন
কবিতা
Bengali
বসন্ত বাহার
বসন্ত বাহার
খুসবু উড়ছে, ভাতের গন্ধ আর সঙ্গে ডালের সুবাস
উড়ু উড়ু মেঘ কে কাহাকে খবর দিলো
দিল্লাগির??
ফোঁটায় মাদক, চুল সরিয়ে সরিয়ে ওই যে নামছে
তুমি একটা আলোর লন্ঠন
হ্যাজাকবাতি জুড়ে নব্বই দশকের ফিলিংস
নিয়ে এলে বসন্ত বাহার!
কোথাও পটকা ফাটছে দুঃখ জলাঞ্জলি দিয়ে
কে যেন আলগোছে খিল দিল
দরজায়
মধ্যরাতের ফেনায় ভেসে গেল আমাদের মধ্যবিত্ত পৃথিবী
উনুনে গরম গরম ভাত
উনুন জুড়ে আমাদের শৈশব
আমাদের কৈশোর
আর উড়ু উড়ু মেঘ!
অসুখের দেশ 
অসুখের দেশ তো
মেয়েটির চোখে শুধু স্বপ্ন হতে চাই
জলের ভেতর হতে চাই গভীর পদ্মটি
যতদিন বাঁচি এই এক গভীর অসুখ
দিয়ে যাক মৃত্যুর যন্ত্রণা
বাঘের গল্প
বাঘের গল্পে ভোর হয়
নিশুতি রাতে বাঘ ভাল্লুকের গল্পে অন্ধকার নির্বাসিত হয়
ক্লান্ত পায়ের এতগুলো হাঁটা বালিশে তুলে রাখি ভোরের স্বপ্নদের
মা বলে ভোরের স্বপ্ন সত্যি হয়
দাদির কিচ্ছারা ঘুমিয়ে পড়ে
দাদোর রেডিওয় আকাশবাণী শিলিগুড়ি
চেচনিয়ার লড়াইয়ের কথা বলে
আমি ঢেঁকিশাকের ফুলের কথা ভাবি
আমি জিনের টাকার কথা ভাবি
ভাবতে ভাবতে ভোর হয়
বাঘ ভাল্লুকেরা চলে যায় হাঁটতে হাঁটতে
দূরে জঙ্গলে দাদার মতো
রূপকথার দেশে
আবেগে নিবিড় হয়ে দ্যাখো
আবেগে নিবিড় হয়ে দ্যাখো
তুলে ধরে যৌনতার হাত
তার শাখা প্রশাখায়
প্রাচুর্যের ফুল ফুটে আছে
সে এক ক্রীসমাস
অলৌকিক রোদ
মাখে গালে চোখে
প্রত্যঙ্গের প্রত্যেক আলোয়
সে কলসের মুখ খুলে রাখে
আমি শুধু বিষটুকু  পান করে যাই!
মরে যেতে চাই
তোমার গন্ধে এতটাই আচ্ছন্ন। এতটাই ভোর
তোমার বুকের ভেতর শুঁকে শুঁকে তুলে আনি
দুঃখ কথা লাউডগা সাপ
ইত্যাদি
দেয়াল তুলেছি। পাড়াপড়শি যা বলে বলুক
আমি আজ মরে যেতে চাই। ওই বুকে, স্তনে
মাথা রেখে

ওয়াহিদার হোসেন। কবি। জন্ম ১৯৮৬, ভারতের পশ্চিমবঙ্গরাজ্যের আলিপুরদুয়ার জেলার দক্ষিণ খয়েরবাড়ি রাঙ্গালিবাজনায়। লেখাপড়া করেছেন ইংরেজি সাহিত্যে। পেশাগত জীবনে তিনি একজন শিক্ষক। চাকরি করছেন ডুয়ার্সের এক প্রত্যন্ত চা বাগানের প্রাথমিক স্কুলে। প্রকাশিত বই: 'মধ্যরাতের দোজখ যাপন' (কাব্যগ্রন্থ, ২০১৩) এবং 'পরিন্দা' (কাব্যগ্রন্থ,...

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ