মানস চক্রবর্তীর চারটি কবিতা

মানস চক্রবর্ত্তী
কবিতা
Bengali
মানস চক্রবর্তীর চারটি কবিতা

পুষবো বলেই তো
কয়েকটা নাপোষ্য নিয়ে আদিখ্যেতা

অমনিই হয় আদি খাতা তাতে সাবেকের মিথ্যে কালিও ভিজে উঠলে ছোপ পায় ছোপছোপ গো

ঝাপসার দিকে তা ছানি হোক আর গ্লুকোমা
ড্রপ কেটে কেটে আইটোন খালি হলেও

নজর সারে না।

 

দুই.

যত আঁকছো সব তো আসলে দেয়াল

ওপেন করতে গিয়ে সবই
ঘিরে ফেলছো

এমনকি নদীটিও

একদিন বল্লে ইহা ফল্গু

আঁচল সরিয়ে এতদূর
এতটা ফস্কে যাওয়া হঠাৎ হাওয়ায়
দম হারিয়ে গেলে
পথ হোক আর নদী হোক
সব হাসপাতাল

ঝুমঝুমি বাজাও তবু
পাঁচমাথা হোক কী সাতমাথা
মোড়ের নির্দেশ মেনে পথ ভাঙা

লাল হলুদ সবুজ তোমাকে দ্বিধা দেয়

কতটা আঁচল ওড়াবে আর কতটা জড়াবে
ভাবতে ভাবতে এখন উলঙ্গ

বাসরের ঘরে শ্মশানের খাট ঢুকে গেলে
ফুলসজ্জা ভেঙে পড়ে

সেসব প্রবলে লজ্জা ঘুলে
পাড়া ময়

আর ফল্গু নয় আলোর মতো সব
এখন গা ঢাকবে কিসে।

 

তিন.

শোক-দল বেরিয়ে পড়ে
আসল প্রস্তাবে ধামা সব ভাঙা

ব্যান্ডেজ ছেড়ে পুরনো ঘা এর পুঁজ
গড়িয়ে আসে

নদীর দিকে পথগুলোয় হাঁসের পালক
নুয়ে পড়া বিকেলের রোদ যাই যাই করে

ট্যান এর কত ডিগ্রি অসীমকে ছোঁয়
গলুয়ের তলায় খলখল করে ওঠে

জল না অন্ধকার

হবিষ্যির মালসায়
ফুল গাছ কে যে পুঁতে যায় রোজ
তা কি তামাসায়
পিন্ডি সার-এ সেই গাছে ছোঁয় না যৌবন

শিয়ালডাকা রাত
আরো কত রাত পরে একটু সকাল হবে।

 

চার.

ঠিক মাঝখান খুঁজে পাচ্ছি না
কম্পাস স্কেল জড়ো করে ডাঁই করে ফেলছি

তোমার মাঝখান কোনো পরিমিতি বা জ্যামিতি বইতে নেই
এত অন্ধকার উপুর করে দিয়েছ
কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি না

তুমি তবু ধাঁধাঁ ঢেইয়ে নানা মাঝখান সাজাচ্ছো
ইউরেকা বলা একটা অজুহাত

বলতে বলতে কিকরে যে ডুবে যাচ্ছি আবছায়ায়
ছায়ার মাঝখানে টিপ সাজিয়ে সাজিয়ে
ওমা ও তো ভুরুর মাঝখান
ওখানে নাগর দোলা চড়েছি সারা শীতকাল

বর্ষার মাঝখানে শাওনী টিপ করে ঢুকে গেলে
সপসপে বিশ্বাস করো
মাঝখান খুঁজতে খুঁজতে টুপ করে ডুব

মানুষের গায়ে মাঝখান কাঁপছে ঠকঠক করে
ঠকঠক অতোটা জুড়ে থাকলে মানুষীর

কিকরে মাঝখানে পৌঁছুই বলো।

এই বিভাগের অন্যান্য লেখাসমূহ

প্রতিভাস

প্রতিভাস

স্পষ্টতা অন্ধকারের মতো স্পষ্টতা আলোর মধ্যগগনে নেই। উত্তাপে ঝলসে যাওয়া চোখে শীতলপাটি বিছিয়ে দেয় রাত…..

চিঠি

ক্ষোভ রোদের দোকানি হয়ে, ছুঁয়ে গ্যাছি দূর পরবাস আলোর ক্রেতারা দেখে, শূন্য ঝুলি খালি সর্বনাশ।…..